মতলবে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬৫ বছরের বৃদ্ধ
Published : ১১:১৯, ২ নভেম্বর ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী দেলোয়ার শিকদার ওরফে দেলু শিকদারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবরের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার (২ নভেম্বর) রাতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে, শিশুটির চিকিৎসা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের সরদার কান্দি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রবিবার রাতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার সময়ও সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
শিশুটির মায়ের ভাষ্য, ঘটনার দিন সকালে তার বাবা আলমাছ শিশুটিকে নিয়ে দেলু শিকদারের বাড়িতে যান। সেখানে অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখছিল শিশুটি। একপর্যায়ে শিশুটিকে বাড়িতে রেখে আলমাছ চলে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরেন বলেও দাবি মায়ের।
মা আরও জানান, মেয়েকে দীর্ঘক্ষণ দেখতে না পেয়ে তিনি দেলু শিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে কান্নারত অবস্থায় পান। পরে শিশুটি মায়ের কাছে নির্যাতনের কথা জানায়। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য অভিযুক্তের পরিবারের কাছে সহায়তা চান তিনি। তবে তারা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন শিশুটির মা। পরে চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট ছিল না বলে দাবি তার।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
































