শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:০০, ২ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, এটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে অথবা মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রথম প্রহরে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। উপকূলে আঘাতের সময় এর একটানা বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতের দেওয়া নাম অনুসারে ঝড়টির নাম ‘মুরাসু’, যার অর্থ যুদ্ধের ঢাক। ভুবনেশ্বর আবহাওয়া কেন্দ্রের পরিচালক মনোরমা মোহান্তি জানিয়েছেন, ২ নভেম্বর থেকে ওড়িশায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে। ৩ নভেম্বর বৃষ্টির মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ওড়িশা সরকার। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ৩টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ওই সময় কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এর দূরত্ব ছিল ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার। এ ছাড়া মোংলা থেকে ১ হাজার ২৪৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল ঝড়টির কেন্দ্র।

বিএমডির আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার। দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের আশপাশে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement