জীবননগর সরকারি কলেজে এইচএসসিতে পাস মাত্র ১ জন
Published : ১১:৪০, ২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সরকারি কারিগরি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। সে হিসাবে পাসের হার ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। কলেজ শাখায় ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও এমন ফলাফল শিক্ষার মান ও পাঠদান নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
গত শনিবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর জীবননগর উপজেলার প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের পরীক্ষায় কলেজটি থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
কলেজ শাখায় ১৫ জন শিক্ষক ছাড়াও সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এত জনবল থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক কালবেলাকে বলেন, সন্তানদের ভালো ফলাফলের প্রত্যাশায় তাঁরা কলেজে ভর্তি করান। কিন্তু এত শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারলে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। তিনি শিক্ষার মান বাড়াতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শুধু শিক্ষক নিয়োগ বা উপস্থিতি যথেষ্ট নয়; নিয়মিত ক্লাস নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. ইমরুল কাদির কালবেলাকে বলেন, এবারের ফল প্রত্যাশিত হয়নি এবং এটি তাঁদের জন্য হতাশার। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনিয়মিত উপস্থিতি, পড়ালেখায় মনোযোগের অভাব ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতিকে তিনি ফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়মিত করা, পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই ধরনের ফলাফল যেন আর না হয়, সে জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট থাকবে বলেও জানান তিনি।


































