৩০ হাজার ইয়াবা লুটের অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

৩০ হাজার ইয়াবা লুটের অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুর প্রতিনিধি

Published : ১২:১২, ২ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাৎ, ট্রাকচালককে জিম্মি ও আলামত নষ্টের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদসহ তিন সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

অভিযুক্ত ফয়েজ আহমেদের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের রাজারচর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. ইয়াকুব গাজী। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায় কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে একটি মিনি ট্রাকে করে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা চট্টগ্রামের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। পথে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাকটির পথ আটকান কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. গাজী মহসীনের নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিনি ট্রাকের চালক নাছিরের দাবি, পুলিশ সদস্যরা তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে জিম্মি করেন। পরে ট্রাকটি সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশের কথিত দুই সোর্স রবিন ও মোমিনের সহায়তায় চালকের আসনের ভেতরে রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাছির আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রমাণ মুছে ফেলতে ট্রাকে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ফরম্যাট করে দেওয়া হয়, যাতে কোনো ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা না যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবা থানায় জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে ওই তিন সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যের কর্মকাণ্ডে কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। তাদের আগের ও পরের কর্মকাণ্ড নিয়েও কিছু অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

শেয়ার করুনঃ
Advertisement