পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণার অভিযোগে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদ হারালেন আবুল কালাম
Published : ১২:৪৩, ৮ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালন নিয়ে বিরোধের জেরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণার অভিযোগে তাঁকে এ পদ থেকে সরানো হয়েছে। তাঁর স্থলে নতুন সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সরকার।
শনিবার বিকেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ২টায় আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি।
তবে একই কর্মসূচি ঘিরে সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ নিজের একক স্বাক্ষরে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পাল্টা র্যালির ঘোষণা দেন। এ নিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে অসন্তোষ তৈরি হয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, আবুল কালাম আজাদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরাসহ কয়েকজন নেতার নাম অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু তাঁদের কাউকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। এমনকি তাঁরা কর্মসূচি সম্পর্কেও অবগত ছিলেন না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নজরুল ইসলাম সরকারকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতির সিদ্ধান্তের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া জানান আবুল কালাম আজাদ। সেখানে নিজেকে ‘ভারমুক্ত’ উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির রাজনীতি দেবিদ্বারে নয়, সুন্দর খেলা যিনি খেলছেন তাকে ধন্যবাদ। আমাকে অব্যাহতি দিয়ে অনেকটা ভারমুক্ত করার জন্য ধন্যবাদ না দিয়ে পারলাম না।’
প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুলাই মো. জসিম উদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং মো. আবুল কালাম আজাদকে সদস্য সচিব করে ১৬ সদস্যের দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় সদস্য সচিবের পদ থেকে আবুল কালাম আজাদের অব্যাহতির ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
































