আইএমএফের পূর্বাভাস: বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২%, মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে ১০.৯%

আইএমএফের পূর্বাভাস: বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২%, মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে ১০.৯% ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:১৪, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সভা চলাকালে মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চূড়ান্ত হিসাবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। ওই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াতে পারে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে।

অর্থাৎ, নতুন অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এ সময়ে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ২০২৭ সালে ৪ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি কমে গেলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আয় বৃদ্ধির গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন।

অর্থনীতির দুর্বলতা তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক

সম্প্রতি প্রকাশিত অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের অর্থনীতির কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির চাপ বাড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কমছে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক সুরক্ষা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন খাতে সরকার বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অনেক সচ্ছল পরিবার এসব সুবিধা পেলেও দরিদ্রতম বহু পরিবার সামাজিক সুরক্ষার বাইরে থেকে যায়।

সংস্কারে জোর বিশ্বব্যাংকের

অর্থনীতির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুশাসন জোরদার এবং কর-রাজস্ব বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

পাশাপাশি সাধারণ ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এসব সংস্কার কার্যকর না হলে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পথে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement