দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, আটক ৪ শতাধিক

দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, আটক ৪ শতাধিক ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১১:৪৭, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাতভর চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট। এ ছাড়া দিল্লির বিভিন্ন রেলস্টেশনে আসার কথা থাকা ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। তবে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে আসার কথা থাকা ২৫০টির বেশি দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক বলেছেন, এসব বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তাঁদের স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নেবেন। তাঁর প্রশ্ন, বিক্ষোভের কারণে জনদুর্ভোগের আশঙ্কায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও মেট্রো, রেল ও সড়ক চলাচলে বাধা দিয়ে কি জনদুর্ভোগ আরও বাড়ানো হচ্ছে না?

দিল্লি পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নয়াদিল্লি জেলায় প্রবেশ ঠেকানো এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করলে দ্রুত সরিয়ে দেওয়াই প্রধান লক্ষ্য। যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে অতি সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

নিরাপত্তা নজরদারি বাড়াতে নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শব্দ ধারণের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যন্তর মন্তরে যাওয়ার সড়কে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। এর কয়েকটি স্তর ওয়েল্ডিং করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো ভেঙে প্রবেশ করা কঠিন হয়।

বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হচ্ছে। জনসাধারণকে জমায়েত না করা, স্লোগান না দেওয়া, সরকারি সম্পদের ক্ষতি না করা এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এ বার্তা প্রচারের জন্য কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক এলাকার সংগঠনগুলোর সহায়তাও চেয়েছে পুলিশ।

বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন হোটেল ও লজে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাকারীদের আবাসন ভাড়া না দিতে বাড়ির মালিক ও এয়ারবিএনবি হোস্টদের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এড়াতেও সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের শুরুতে একটি বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশি অসদাচরণ এবং এক নারী বিক্ষোভকারীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।

এবারের কর্মসূচির প্রতিটি ঘটনা নথিভুক্ত করতে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাসহ দায়িত্বরত সদস্যদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এসব ভিডিও তদন্তে সহায়তা করবে বলে আশা করছে পুলিশ।

এ ছাড়া দিল্লি পুলিশ একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, পুলিশের সদস্যরাও মানুষ; তাঁদেরও পরিবার রয়েছে, যারা বাড়িতে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করেন। পোশাকের কারণে কারও মানবিক পরিচয় হারিয়ে যায় না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement