অতিরিক্ত লবণ যাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে

অতিরিক্ত লবণ যাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০৩:০৮, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

রক্তচাপ স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেশি থাকলে খাবারে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শরীরে হঠাৎ কোনো জটিলতা দেখা দিলে তার পেছনে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সে কারণেই চিকিৎসকেরা সব সময় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দেন।

পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনন্দিন খাবারে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ লবণে থাকা সোডিয়ামের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে বিষয়টি এমন নয় যে লবণ শুধু ক্ষতির জন্যই দায়ী। রান্নায় লবণ কেবল স্বাদ বাড়ানোর উপাদান নয়, বরং শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে এর ভূমিকা রয়েছে। স্নায়ুর সংকেত আদান–প্রদান, পেশির স্বাভাবিক কাজকর্ম, শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, এমনকি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সোডিয়ামের প্রয়োজন অপরিসীম।

এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—লবণ যদি এত প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে একে এতটা দোষারোপ করা হয় কেন?

এ বিষয়ে চিকিৎসক ও হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি ইয়ারানোভ বলেন, লবণ সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক জটিলতা থাকলে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কে কতটুকু লবণ গ্রহণ করবেন, তা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। নিজের ইচ্ছেমতো হঠাৎ করে খাবার থেকে লবণ একেবারে কমিয়ে দেওয়া বা বাদ দেওয়া ঠিক নয়।

তার মতে, লবণকে একেবারে ‘ভিলেন’ হিসেবে দেখা ভুল। মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সোডিয়ামের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে যাঁরা আগে থেকেই হৃদ্‌রোগ বা কার্ডিয়োভাসকুলার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লবণ সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

লবণ গ্রহণের বিষয়ে যাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন—

যাঁদের হৃদ্‌যন্ত্রে কোনো ধরনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের লবণ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। কারণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়, যা শরীরে পানি জমে থাকার ঝুঁকি তৈরি করে।

যাঁদের রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত অথবা নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাঁদের জন্য বেশি লবণ গ্রহণ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পরিমিত লবণ গ্রহণ জরুরি।

যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও লবণ গ্রহণে সতর্কতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত লবণ শরীরে তরল জমিয়ে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা কিডনি বিকলের ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপে ভুগলে তার প্রভাব লিভারেও পড়তে পারে। শরীরে পানি জমে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং সিরোসিস অব লিভারের মতো জটিল রোগের আশঙ্কাও তৈরি হয়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement