গাজায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার, অধিকাংশই নারী ও শিশু

গাজায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার, অধিকাংশই নারী ও শিশু ইসরায়েলি হামলায় নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করছে লোকজনফাইল ছবি: রয়টার্স

আল–জাজিরা

Published : ১১:৩৮, ৯ আগস্ট ২০২৬

ইসরায়েলি হামলায় গাজা নগরে ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর অধিকাংশই নারী ও শিশুর বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

শনিবার চার দিনব্যাপী উদ্ধার অভিযান শেষে গাজা নগরের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ‘কারাম’ ভবন থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আবু দান জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো হয়।

উদ্ধারকর্মীদের পরবর্তী অভিযান গাজা নগরের অন্য একটি এলাকায় পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।

সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়া ভবনের বিশাল কংক্রিটের স্তূপ সরানোর মতো ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ফলে সাধারণ সরঞ্জাম ও শারীরিক শ্রমের ওপর নির্ভর করেই ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকাজুড়ে এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত এবং ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ।

এর আগে গত মঙ্গলবার গাজা নগরের সাবরা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আল-হাসাইনা ও আবু শারিয়া পরিবারের ১১২ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ভবনটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়েছিল। তাঁদের গণজানাজার পরপরই ‘কারাম’ ভবনে উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ১৯টি মরদেহ।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/t43pn1u3ss/public_html/details.php on line 542