ইরান যুদ্ধে মজুত কমায় অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের
Published : ১০:৩৯, ৯ আগস্ট ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা জমা দিতে ২১ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম এক মাসেই মার্কিন বাহিনী ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৩০০টির বেশি কৌশলগত ব্যালিস্টিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০টি। বর্তমানে তা ৮২৭টির নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ৪৫২টি থেকে কমে ২৭৮টির নিচে নেমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মজুত পুনর্গঠনে এরই মধ্যে কয়েকটি বড় মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে পেন্টাগন। লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যানকে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর কাজে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কম খরচে অস্ত্র উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কাজে লাগানো হচ্ছে।
লকহিড মার্টিনকে ২০৩০ সালের মধ্যে পিএসি-৩ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন তিন গুণ বাড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৮৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
তবে অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনের এই উদ্যোগের বড় অংশই কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দের ওপর নির্ভর করছে। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় প্যাকেজ এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ সংকটে পেন্টাগনের কয়েকটি চুক্তিও এগোতে পারছে না।
এ অবস্থায় ইরান যুদ্ধের সময় দ্রুত কমে যাওয়া মার্কিন অস্ত্রের মজুত কত দ্রুত পুনরায় পূরণ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


































