পরাজয় জেনেও যে কারণে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিচ্ছে জামায়াত
Published : ১১:২৩, ৯ আগস্ট ২০২৬
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় জয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও বিরোধী দল হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটি।
শনিবার রাতে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে শরিকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এখন তারা বিরোধী দলে থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার নজির আগেও রয়েছে। বিরোধী দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা আরও জোরদার হয়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনও জানান, জোটগতভাবেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। ফলাফল কী হবে, সেটিকে তারা প্রধান বিবেচনা হিসেবে দেখছেন না বলেও জানান তিনি।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। সে সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন।
এরপরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ফলে দীর্ঘ সময় পর বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৬৮টি আসন। ফলে সংসদীয় ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপির প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে। তবে জয়-পরাজয়ের হিসাবের চেয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকেই গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।


































