আমার কাজ আর বাংলাদেশ পুলিশের প্রয়োজন নেই
Published : ১৩:৩০, ২৬ আগস্ট ২০২৬
সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করায় ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি) মো. রেজাউল করিম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পোস্টে রেজাউল করিম লেখেন, তাকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে যেন বোঝানো হয়েছে, পুলিশ বিভাগে তার কাজের আর প্রয়োজন নেই। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের চাকরিজীবনে প্রায় ৯ বছর তাকে ‘ডাম্পিং পোস্টিংয়ে’ থাকতে হয়েছে। তবে এসব নিয়ে তিনি আগে আপত্তি করেননি বলেও জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “এই ডিপার্টমেন্ট তেলবাজদের জন্যই ফিট। আমার মতো উচিত কথা বলা, সাহস নিয়ে সত্য বলা, নিয়ম মেনে কাজ করা অফিসারের কদর এই ডিপার্টমেন্ট করতে পারবে না।”
নিজের সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি উল্লেখ করে রেজাউল করিম আরও বলেন, শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার পরও যদি এমন ফল পেতে হয়, তাহলে তার আর কিছু বলার নেই। অন্যায় মেনে নেওয়ার চেয়ে সংযুক্ত থাকাকেই শ্রেয় মনে করছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
যে কারণে সংযুক্তির দাবি করছেন রেজাউল
পুলিশ সুপার রেজাউল করিম তার পোস্টে দাবি করেন, কয়েকদিন আগে তাদের পদায়ন নিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ তিনি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে তার কাছে জানতে চান এবং তিনি ওই কর্মকর্তাকে জবাব দেন।
রেজাউল করিম জানান, পরে তিনি সংবাদটি শেয়ার করা পোস্টটি মুছে দেন। তবে এরপরও তাকে সিটি এসবি থেকে খাগড়াছড়ির বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনাকে তিনি পুলিশ বিভাগে কর্মকর্তাদের কাজের মূল্যায়নের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
২৯তম বিসিএসে পুলিশে যোগদান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মো. রেজাউল করিম ২৯তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। চাকরিজীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সর্বশেষ রাজবাড়ীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তিনি সিটি এসবিতে পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মো. রেজাউল করিমকে সিটি এসবি থেকে এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত করা হয়।
তবে তার ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগ বা সংযুক্তির সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
































