রংপুরে ৪ খুনের মামলায় তদন্ত সংস্থা বদল, দায়িত্বে ডিবি

রংপুরে ৪ খুনের মামলায় তদন্ত সংস্থা বদল, দায়িত্বে ডিবি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি নিউজ, রংপুর

Published : ১১:০৩, ২৫ আগস্ট ২০২৬

রংপুর: রংপুর নগরের কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছ থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার লক্ষ্যে তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি সোমবার বিকেলে ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথিপত্র নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিনাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন। মামলাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দায়িত্ব এখন তার ওপর দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জি জানান, দুই আসামি আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় পুলিশ তাদের রিমান্ডে নেয়নি।

পুলিশ ও মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রীয়ম এবং কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করা অর্চনা চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তী বাড়ির ছাদে গভীর রাতে ইয়াবা সেবনের ঘটনা দেখে ফেলেছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় প্রথমে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য তিন সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

স্বজনেরা জানান, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত এখন ডিবির অধীনে চলবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement