রোহিঙ্গা গণহত্যার ৯ বছর, আজও মেলেনি নিজভূমির অধিকার
Published : ১০:১৩, ২৫ আগস্ট ২০২৬
আজ ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস। ২০১৭ সালের এই দিনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযান, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ভয়াবহ এ মানবিক বিপর্যয়ের নয় বছর পার হলেও তাদের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর সমাধান এখনো হয়নি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবছর দিনটি রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস হিসেবে পালন করে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রধান দাবি—নাগরিকত্ব, নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার এবং পূর্ণ নিরাপত্তা—এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের বিভিন্ন শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিলেও বিপুলসংখ্যক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ায় শিবিরগুলোতে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে উঠছে। খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
রাখাইন রাজ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের পথকে আরও জটিল করেছে। ওই অঞ্চলের বড় অংশে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রত্যাবাসন কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐতিহাসিক অবিশ্বাসও নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
চীন ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাই করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর একটি পাইলট প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও নিজ ভিটেমাটিতে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকায় এবং রাখাইনে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলমান রয়েছে। কিন্তু এসব দীর্ঘমেয়াদি বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাবাসনের তাৎক্ষণিক অগ্রগতিতে সীমিত ভূমিকা রাখতে পারছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য কেবল ত্রাণনির্ভর জীবন নয়, তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের অধিকার নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।





























