লোডশেডিং কমবে ‘খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে’
Published : ১৩:৫২, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চলমান লোডশেডিংয়ের চাপ এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, খুব শিগগিরই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতে ঢাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখতে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ সংকটের চাপ সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে।
তিনি বলেন, বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে শুধু প্রভাবশালী মানুষ বসবাস করেন বলে শহরে বিদ্যুৎ বেশি দিতে হবে। সরকারের বর্তমান নীতির লক্ষ্য হলো সংকটের সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতির চাপ তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা।
অতীতের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও তথ্য প্রকাশের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছে এবং কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
জাহেদ উর রহমানের দাবি, ওই সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পদ্ধতি থেকে সরে এসেছে বলেও জানান তিনি।
কেন হচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট?
বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার স্বাভাবিক প্রবণতার কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। এর বিপরীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল।
সংকট মোকাবিলায় ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে বলে দাবি করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সংকটের কষ্ট কমবেশি সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু
প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মাণাধীন লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া প্রকল্প এলাকায় এ অনুষ্ঠান হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশে সার সংকট নেই: উপদেষ্টা
দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই বলেও দাবি করেন জাহেদ উর রহমান। তাঁর ভাষ্য, সরবরাহ পর্যায়ে সমস্যা না থাকলেও বিতরণের ক্ষেত্রে দু-একটি এলাকায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যা সরকার সমাধান করেছে।
তিনি জানান, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে দেশে বর্তমানে ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন। ফলে এবার সারের মজুত গত বছরের তুলনায় সমান বা কিছুটা বেশি রয়েছে বলে জানান তিনি।
ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালার আওতায়
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলকে ঘিরে কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব যানবাহনকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ই-রিকশার যান্ত্রিক ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য, চালকদের লাইসেন্স, যানবাহনের নিবন্ধন এবং কোন কোন এলাকায় এসব যান চলাচল করতে পারবে—এসব বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ই-রিকশা এখন বাস্তবতা এবং এই বাস্তবতাকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করা গেলে ই-রিকশা চলাচল নিয়ে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



























