কক্সবাজারের মানবপাচার নিয়ে গবেষণা: দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি ইয়াসমিন

কক্সবাজারের মানবপাচার নিয়ে গবেষণা: দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি ইয়াসমিন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:৪৫, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানবপাচারের ঝুঁকি ও এর জটিলতা নিয়ে গবেষণার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সাংকংহে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার অধরা।

গত ১৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এবারের অনুষ্ঠানে মোট ২৫৪ শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁদের মধ্য থেকে বিভিন্ন বিভাগের ১৩ জন শিক্ষার্থী প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হন। গ্র্যাজুয়েট স্কুল থেকে একমাত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ইয়াসমিন।

ইয়াসমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের এশিয়ান নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশনস প্রোগ্রামে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তবতায় মানবপাচারের বিভিন্ন দিক।

তাঁর থিসিসের শিরোনাম, “Internal Colonies of Aid and Mobility: Human Trafficking within the Rohingya Refugee–Host Community Landscape of Cox’s Bazar”।

গবেষণায় শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, মানুষের চলাচল, জীবিকা এবং নিরাপত্তার সঙ্গে মানবপাচারের যোগসূত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মানুষের চলাচলের ওপর বিদ্যমান বিভিন্ন বিধিনিষেধ কীভাবে পাচারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, গবেষণায় বিশেষভাবে সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ইয়াসমিন বলেন, এ স্বীকৃতি তাঁর জন্য যেমন আনন্দ ও গর্বের, তেমনি এটি বড় একটি দায়িত্বও তৈরি করেছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবপাচার একটি কঠিন বাস্তবতা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের গবেষণার লক্ষ্য সম্পর্কে ইয়াসমিন জানান, রোহিঙ্গা সংকটকে কেবল শরণার্থী সংকট হিসেবে দেখার পরিবর্তে এর সঙ্গে যুক্ত মানবপাচার, মানুষের চলাচল, জীবিকা ও সামাজিক বাস্তবতার পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক একাডেমিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত ইয়াসমিন। তাঁর ভাষ্য, এই পুরস্কার তাঁর যাত্রার সমাপ্তি নয়; বরং মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক সংকট নিয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করার নতুন অনুপ্রেরণা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement