৪৮ বছরে বিএনপি, দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

৪৮ বছরে বিএনপি, দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:০১, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত দলটি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ৪৮ বছরে পা দিয়েছে। এবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে বিএনপি। ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দলটির জন্য কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে।

সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তারেক রহমান।

এ ছাড়া সারাদেশের জেলা ও মহানগর ইউনিটগুলো নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা, র‍্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণের মতো সামাজিক কার্যক্রমও রয়েছে কর্মসূচিতে।

সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায়
দলের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা ছিল নানা সংকট, আন্দোলন ও ত্যাগে পরিপূর্ণ। প্রতিষ্ঠার পর দলটি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। আবার দীর্ঘ সময় বিরোধী দল হিসেবেও রাজপথে সক্রিয় ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল সরকারবিরোধী আন্দোলন, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি। তবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর দলের সামনে চ্যালেঞ্জের ধরনও বদলে গেছে।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

একই সঙ্গে বিরোধী রাজনীতির অভিজ্ঞতাকে সরকার পরিচালনার প্রশাসনিক দক্ষতা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সমন্বয় করাও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়
বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন দল ও সরকার পরিচালনা করছে। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে দলটি কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি বাস্তবায়ন করে, সেটিই এখন দেশের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত বিষয়।

এ কারণে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতেও রাজনৈতিক আয়োজনের পাশাপাশি আলোচনা সভা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রায় দুই দশক পর জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তাই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাদের জন্য আনন্দের পাশাপাশি আত্মমূল্যায়নেরও সময়।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি যে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছে, সেই ধারাকে এগিয়ে নেওয়াই দলের লক্ষ্য। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াকে দলের প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপির মূল আদর্শ। শহীদ জিয়াউর রহমান প্রণীত ১৯ দফা কর্মসূচিকে দলের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

দলের নেতাদের মতে, ৪৮ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জনগণের আস্থা অর্জন। তবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন মোকাবিলার পর এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই বিএনপির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

আগামী দিনে দলটি কতটা কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ অবস্থান।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement