জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ: রিজভী
Published : ১৪:২৩, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এখন দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থাকার মাধ্যমেই বিএনপিকে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হবে।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ও আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর নীতি, আদর্শ ও দর্শন ধারণ করেই দলটি এগিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি এবং আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন রিজভী। তাঁর দাবি, বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নাগরিক স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ তৈরির পেছনে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আপসহীনভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নানা নিপীড়ন, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার থেকে সরে যাননি।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কারাবন্দি থাকা, নির্যাতন ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি আপস করেননি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও তিনি দলের নেতাকর্মীদের জন্য প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন বলে উল্লেখ করেন রিজভী।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকাকালে দলের দায়িত্ব পালন করেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি বাবা-মায়ের রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রিজভীর দাবি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের আন্দোলন পরবর্তী সময়ে জুলাই বিপ্লবের প্রবল আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ক্ষমতায় আসার পর জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং জ্বালানি বহনকারী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
রিজভী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের বাইরে আরও প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর পুনরায় গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার তুলে ধরে রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। ৩১ দফা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০-এ দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


































