১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতির আশা

১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতির আশা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:২৩, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমান সংকটে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তা নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

এলএনজি সরবরাহে ধাক্কা
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি গত ২১ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি মেরামত করা হলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এলএনজি কার্গো আমদানির সময়সূচি নতুন করে নির্ধারণ করতে হওয়ায় স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানান তিনি।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এরই মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। এ কারণে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও রয়েছে চাপ
জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সাময়িক সংকট রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

প্রতিমন্ত্রী জানান, রামপাল কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা নিয়ে কয়েকটি লাইটারেজ জাহাজ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় জাহাজগুলো মোংলা বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না।

আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের স্বস্তির প্রত্যাশা
পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে এবং এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

এর ফলে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সংক্রান্ত ভোগান্তিও কমবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement