মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে, মামলা

মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে, মামলা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৫০, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী যেখানে লাল বাতি জ্বললে ট্রাফিক সিগন্যালে নিজের গাড়িবহর থামিয়ে রাখেন, সেখানে সাধারণ নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সচিবালয়ের পথে উল্টোপথে ছুটে চলা মন্ত্রীর গাড়ি শেষ পর্যন্ত আইনি বেড়াজালে আটকা পড়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর পতাকাবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে সরাসরি মামলা ও জরিমানার ঘটনা ঘটল।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার ব্যস্ততম সার্কিট হাউজ রোডে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সকাল ৯টা ৮ মিনিটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাতের ব্যবহৃত বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়িটি (নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-২১২৫) নিয়ম ভেঙে উল্টোপথে সচিবালয়ের দিকে এগোচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পাশেই নির্ধারিত সড়ক দিয়ে অতিক্রম করছিল খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব গাড়িবহর। এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে মন্ত্রীর গাড়ির বেপরোয়া ও বেআইনি আচরণ কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের নজড় এড়ায়নি।

পুলিশের কঠোর পদক্ষেপে মুহূর্তেই থামিয়ে দেওয়া হয় পতাকাবাহী গাড়িটিকে। ডিএমপি আইন অনুযায়ী বেপরোয়া ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি আলাদা মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে আরোপ করা হয় মোট ৬ হাজার টাকার অর্থদণ্ড। ঘটনার সময় গাড়ির ভেতরে স্বয়ং মন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সূত্র।

অতীতে ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা মন্ত্রীদের গাড়ির জন্য যানজট এড়িয়ে শর্টকাটে গন্তব্যে পৌঁছানোর অপসংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই প্রথম কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষমতার তোয়াক্কা না করে মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিলো। সচিবালয়ের করিডোর থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই আলোচনা—আইন প্রয়োগের এই সাহসী ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ কি তবে ক্ষমতার প্রভাব ছাপিয়ে সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে? রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের জন্য এই ঘটনা স্পষ্টতই এক জোরালো ও হুঁশিয়ারিমূলক বার্তা হয়ে থাকল।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement