ধর্ম-বর্ণের বিভাজন নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
Published : ১২:৪৬, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু—এ ধরনের বিভাজনের পরিবর্তে সব নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে দেখতে হবে। একই সঙ্গে ধর্ম যার যার হলেও নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার সবার সমান—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানি বিতরণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম ও বর্ণের পরিচয় আলাদা হলেও রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গুজব ছড়ানো নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান
দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করে এমন কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথাও জানান তিনি।
দেশ পুনর্গঠনে গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন জনগণের অধিকার হরণ করে কঠোর শাসন চালানো হয়েছিল এবং ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সেই শাসনের অবসান হয়েছে।
এখন অর্থনীতি, সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানি বিতরণ
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের মধ্যে ভাতা তুলে দেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৬৪ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকে একই ধরনের সম্মানি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বার্তাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।































