আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় শেষ, কাজের মাধ্যমে অবস্থান প্রমাণ করব: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার
Published : ১৭:৪১, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে নিজের ধর্মীয় অবস্থান ও মতাদর্শ নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। তবে কথার মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন না করে কাজের মাধ্যমেই নিজের অবস্থান ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান তিনি। সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
নিয়োগের পর বিভিন্ন মহল ও হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলার বিষয়ে শামীম কায়সার বলেন, সব নিয়োগ সবার পছন্দ হবে এমন কোনো কথা নেই। কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা বা ভুল ধারণার কারণেও এমন আপত্তি তৈরি হতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গল্পের শরণাপন্ন হন।
নিজের পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি বলেন, ‘আমাকে এমন জায়গায় ফেলবেন না, যেখানে আমাকে বলতে হয়, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, কাদম্বিনী মরে নাই।’ অর্থাৎ, বারবার নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেয়ে কাজের মধ্য দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিতে চান তিনি।
নিজের পারিবারিক ও ধর্মীয় ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, তার নানার পরিবার হানাফি মাজহাবের এবং দাদার পরিবার বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিসের অনুসারী। ফলে ছোটবেলা থেকেই তিনি দুই ধারার ধর্মীয় চর্চা দেখেছেন। ২০১৪ সালে মায়ের মৃত্যুর পর ওমরাহ পালনে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে তার পড়াশোনা ও জানার আগ্রহ আরও বাড়ে। পরবর্তীতে আরবি ও তাজবিদসহ ইসলামি বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন মসজিদে খুতবা দেওয়ার অনুমতি পেয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শুধু ইউটিউবে দু-একটি বক্তৃতা শুনে ‘আমি জান্নাতি, বাকি সবাই জাহান্নামি’ কিংবা ‘আমরাই সঠিক, অন্য সবাই ভুল’—এমন মানসিকতা জ্ঞানচর্চার পরিচয় হতে পারে না। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ‘লা-মাজহাবি’ বা কট্টরপন্থি অবস্থানের ধারণাকে তিনি একটি অপবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইতিমধ্যে হেফাজত ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অনেক শীর্ষ আলেমের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব সম্পর্কে শামীম কায়সার স্পষ্ট করে বলেন, এই মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা মতবাদ প্রতিষ্ঠার জায়গা নয়। দেশের সব ধর্ম, মত ও পথের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান এবং অধিকার নিশ্চিত করাই এই মন্ত্রণালয়ের কাজ। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়া এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাই তার প্রধান লক্ষ্য।
সবশেষে সমালোচকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রীর দ্ব্যর্থহীন বার্তা—কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই নিজের পরিচয় ও সততা প্রমাণ করতে চান তিনি।



























