শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অবস্থানে কোনো দ্বৈততা নেই: ডা. জাহেদ উর রহমান
Published : ১৭:৪৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকারের অবস্থানে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা দ্বৈততা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট—তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কৌশল নিয়ে বিভিন্ন মহলের অনুমান নাকচ করে ডা. জাহেদ বলেন, ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে—সরকারের এমন কোনো কৌশলগত অবস্থান নেই। বরং শুরু থেকেই ভারত সরকারের কাছে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। শেখ হাসিনা বর্তমানে একজন পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি উল্লেখ করে তিনি জানান, তাকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই এবং তিনি দেশে ফিরলেও বিচার পুনর্বিবেচনার কোনো আইনি সুযোগ পাবেন না।
ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া প্রসঙ্গে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. জাহেদ বলেন, ভারত সরকারের আশ্রয়ে থেকে তিনি যেভাবে সংবাদমাধ্যমে কথা বলে যাচ্ছেন, তা বাংলাদেশের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ভারত সরকার তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখবে—এমনটিই বাংলাদেশ আশা করেছিল।
ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ভারতে শেখ হাসিনা ঠিক কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নের স্বার্থে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখার পদক্ষেপ নিতে পারে।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তির সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি ভারত সরকারের উপলব্ধি করা উচিত। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গও টানেন ডা. জাহেদ। তিনি জানান, বর্তমান হাইকমিশনার গণমাধ্যমবান্ধব এবং পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এই দায়িত্বে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।



























