বিদ্যুৎ সংকট: শুধু মন্ত্রীকে দোষারোপ করা কতটা যৌক্তিক?
Published : ০০:২৬, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্প্রতি দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদ এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরাসরি মন্ত্রীর ওপর সব দায় চাপানো কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে উঠে এসেছে নানা বিশ্লেষণ। বিশ্লেষকদের মতে, পল্লী বিদ্যুৎসহ পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ কাঠামোর দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা এবং বৈশ্বিক সংকটকে আড়াল করে কেবল একজন মন্ত্রী বা ব্যক্তিকে দায়ী করা কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দেবে না।
সরকারপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে দ্রুত সংকট সমাধানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তবে জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ব্যক্তি আক্রমণাত্মক বা তীর্যক মন্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, একটি প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যর্থতার পূর্ণ দায়ভার কেবল একজন বর্ষীয়ান মন্ত্রীর কাঁধে চাপানো সরকারব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর আঘাতের শামিল।
কারিগরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের সিংহভাগ সমস্যা দীর্ঘ ওভারহেড ফিডার লাইনকেন্দ্রিক। বহু ফিডারের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হওয়ায় কোনো স্থানে গাছপালা পড়া, বজ্রপাত বা ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা ম্যানুয়ালি খুঁজে বের করে মেরামত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে। পাশাপাশি ভোল্টেজ ড্রপ, ট্রিপিং এবং পুরোনো প্রযুক্তির গ্রিডলাইনের কারণে গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিগত সরকারের আমলে সঠিক স্থানে সমন্বিত বিদ্যুৎ অবকাঠামো না গড়ে তোলা, আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি এবং স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তাই সংসদ ও রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যক্তি আক্রমণের বদলে স্মার্ট গ্রিড স্থাপন, আধুনিক রিক্লোজার ও অটোমেটিক ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তির সংযোজন এবং টেকসই রূপান্তরের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।




























