জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে রাষ্ট্র অশান্ত করবেন না: জামায়াতকে রাশেদ খান
Published : ১৮:০২, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং দলটির রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা চালালেও তাকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
‘জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে রাষ্ট্র অশান্ত করা হচ্ছে’
জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন বলেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সংকট। এই সংকটকে পুঁজি করে লংমার্চ করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি এভাবে লংমার্চ করেন, রাষ্ট্রকে অশান্ত করেন, তাহলে তো আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে।’
জামায়াতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা অপেক্ষা করছেন কখন রাষ্ট্র অশান্ত হয়। তাঁর দাবি, জামায়াতের কর্মকাণ্ডের ওপর আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা নির্ভর করছে।
‘আওয়ামী লীগ ফিরলে আবরারের মতো হত্যা করবে’
রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, জামায়াত আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য এক ধরনের চক্রান্ত করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আবার ফিরে এলে আবরার ফাহাদকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, একইভাবে সাধারণ মানুষকেও হত্যার শিকার হতে হবে।
তবে বাংলাদেশের জনগণ এ বিষয়ে সোচ্চার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত যদি আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করবে বলে সতর্ক করেন রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, যে সংগঠনের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে, সেই আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। জামায়াত চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগকে আর দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘আবরারের চেতনা ধারণ করে বিএনপি’
রাশেদ খাঁন বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও শহীদ হাদীর মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত অবস্থান পরিবর্তন না করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না।
তাঁর ভাষ্য, এটিও আবরার ফাহাদের চেতনার প্রতিফলন। বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে অতীতের ‘রাখীবন্ধন’ সম্পর্কের পরিবর্তে সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আবরার ফাহাদের স্মৃতি ধরে রাখতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার স্টেডিয়ামসহ দেশের বিভিন্ন স্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দেশের মাটিতেই হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার ও কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

































