রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: মিষ্টিসহ কয়েক নেতার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা
Published : ১২:১২, ৩ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় কয়েকজন স্থানীয় নেতা একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তদন্তে সদ্য পদত্যাগকারী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নামও আলোচনায় এসেছে। তবে মিষ্টি হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না এবং কীভাবে তার নাম জড়িয়েছে তা তিনি জানেন না।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শতাধিক মানুষ হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে কেন্দ্রটির একটি স্থায়ী ভবনসহ কয়েকটি স্থাপনা ভারী যন্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সময় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করা হয়।
মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়াকে নামীয় আসামি করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ২৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে হানিফ মিয়া, আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলের নামও এসেছে। তাঁদের কয়েকজনকে হামলার সময় সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, হামলার আগে কয়েকজন ব্যক্তি লেলিন ও হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পরে তারা রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দিকে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া এবং ঘটনাটি পরিচালনায় যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দল ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কয়েকটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের তদন্তে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে; বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে ১২, ১৫ ও তার বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছিল। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।
এদিকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি পরে পদত্যাগ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























