মালয়েশিয়ায় আবারও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

মালয়েশিয়ায় আবারও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ আরিফুল হক চৌধুরী

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:০৫, ৪ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এবার শুধু কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশেই কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে মালয়েশিয়া ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। নতুন প্রক্রিয়ার শুরুতে এসব কর্মীকে বিনামূল্যে পাঠানোর উদ্যোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদার ভিত্তিতে বোয়েসেল ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে।

নতুন ব্যবস্থায় আগে নির্ধারণ করা হবে মালয়েশিয়ার কোন খাতে কতজন এবং কী ধরনের দক্ষ কর্মী প্রয়োজন। এরপর সেই চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণ ছাড়া কর্মী পাঠালে বিদেশে গিয়ে নানা জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা থাকে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী বাছাই করবেন। নির্বাচিত কর্মীদের পরবর্তী ধাপে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

তবে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। মেডিকেল পরীক্ষাসহ কয়েকটি বিষয়ে অনুমোদন বাকি রয়েছে। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে কর্মীর চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পর কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

আগেরবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ব্যয় ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। এবার এসব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে আরও সতর্ক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর কথা জানিয়েছে সরকার।

এদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ চাকরির সুযোগ বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরেই ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।

এই কেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইন ও সরাসরি চাকরিপ্রার্থী এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে একটি ডাটাবেস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জনবল চাহিদা নির্ধারণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জব ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে সম্ভাব্য কর্মী খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement