শ্রমিক আন্দোলনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শ্রমিক আন্দোলনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২০:১৭, ৪ নভেম্বর ২০২৬

চলমান শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি শ্রমিক আন্দোলন, রাজনৈতিক এজেন্ডা নাকি সহিংসতা—তা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পোশাকশ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে বিলম্ব হয়েছিল। নাম পাওয়ার পরদিনই বোর্ড গঠন করা হয়। বুধবার বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি রয়েছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনবেন। অতীতে পাঁচ বছর পরপর মজুরি বৃদ্ধির হার, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো।

তবে চলমান সহিংসতার পেছনে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বাইরে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি শ্রমিক আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টি করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন—এমন কিছু শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয় সামনে এসেছে বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। মাফিয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেকোনো ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার কথা শুনতে প্রস্তুত। এ জন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বর্তমান সহিংসতাকে শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে দেখছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হামলায় বাহিনীর কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও তারা যথাসম্ভব শ্রমিকদের ওপর বল প্রয়োগ থেকে বিরত রয়েছেন বলে জানান তিনি।

শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখা জরুরি। মজুরি বোর্ড গঠন করে কাজ শুরু করেছে। তাই এখন আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি ঘোষণা করতে বোর্ডকে বলা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই ঘোষণা করা সম্ভব হলে সেটি ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আটক হয়েছেন কি না, তা তার জানা নেই। আটক হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement