মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
Published : ২০:২৯, ৪ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের পরাজিত করে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের ক্ষমতার এই পালাবদল নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও রিপাবলিকান শাসনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের জনরায় হিসেবে দেখছেন অনেকে।
ওবামা ও ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্র্যাটদের জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্য ও বাস্তবসম্মত সমাধান চান—এমন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভোটাররা।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, মার্কিন জনগণ এমন নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, যা মানুষকে দরিদ্র করে, ঘৃণা ছড়ায় এবং অভিজাতদের বিশেষ সুবিধা রক্ষা করে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির প্রধান বার্নড ল্যাঞ্জ এই ফলাফলকে ট্রাম্প ও তার নীতির জন্য বড় ধাক্কা এবং মার্কিন গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্বল হয়ে পড়া ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক ও অনিশ্চিত আচরণ করতে পারেন।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি দলের নেতা জর্ডান বারদেলা বলেন, ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নয়, ইউরোপের অর্থনীতিতেও পড়ছে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ইউরোপের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন নির্বাচনের ফলকে যুদ্ধবিরোধী জনমতের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে—আমেরিকানরা যুদ্ধকে ‘না’ বলেছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মার্কিন সরকার যদি আন্তর্জাতিক অর্থদাতা ও চাপ সৃষ্টিকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
রাশিয়ার অবস্থান
রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলে মস্কোর পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তার ভাষ্য, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের অবস্থান বরাবরই নেতিবাচক। ইউক্রেনসহ পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে রাশিয়া নিজেদের নির্ধারিত অবস্থান অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবে।
জাপান ও তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া
জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেছেন, নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, জাপানের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতির মূল ভিত্তি থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির জোট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠলেও দুই দেশের শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও নির্বাহী বিভাগের বিভিন্ন দলের মধ্যে তাইওয়ানের প্রতি যে সমর্থন রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের বাকি দুই বছর কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক নিয়োগ, তদন্ত এবং বাজেটসংক্রান্ত বিষয়ে দুই দলের মধ্যে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিশংসন ও ভেটোকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। ফলে ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতে ওয়াশিংটনের অবস্থান কীভাবে বদলায়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর থাকবে।































