পোশাকশ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন: অসন্তোষ নিরসনে জরুরি বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী
Published : ১৯:৩৫, ৪ নভেম্বর ২০২৬
দেশের চলমান শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়। পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এর আগে বুধবার সকাল ১১টায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম বেতন আগামী জানুয়ারিতে দেওয়া হতে পারে।
গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ আজাদ সুবহানী দায়িত্ব পালন করছেন। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
বর্তমানে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, এ মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। এ দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি চলছে।
আন্দোলন ঘিরে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতির কারণে কয়েক শ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। এতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের বিষয়টি সামনে আনছেন মালিকপক্ষ।
এ পরিস্থিতিতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে মজুরি ইস্যু ও চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।































