২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:১৭, ৫ নভেম্বর ২০২৬

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি বলেন, কোনো প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করে না। বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল—এসব সূচকের ভিত্তিতেই প্রকৃত সাফল্য মূল্যায়ন করতে হবে।

পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড্রেজিংয়ের পলি ব্যবস্থাপনা, তেল নিঃসরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিপজ্জনক কার্গো ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মোংলা বন্দরকে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বন্দরের নাব্যতা, নৌ-চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করতে হবে। উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনগত শর্তে মোংলা বন্দরকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এ বন্দরকে ঘিরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করতে হবে।

এ লক্ষ্যে পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত চার লেনের সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ এবং বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন।

মোংলা বন্দর, মোংলা ইপিজেড, চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা আরও সহজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদারে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন দেশের শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে এ প্রকল্প টেকসই আর্থসামাজিক মূল্য সংযোজন করবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement