শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৮, আহত ১০-এর বেশি
Published : ১৭:২৫, ১৪ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার কাজে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জনের বেশি শ্রমিক। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—নাসির উদ্দিন (৪৭), মনসুর আহমদ (৫৫), সানি জলদাশ (৩৫), পলাশ জলদাশ (৩৯), মো. খোকন (৪০) ও মো. রানা (২৭)। নাসির উদ্দিন ও মনসুর আহমদ সম্পর্কে দুই ভাই এবং তারা সেকান্দর মিয়ার ছেলে। সানি ও পলাশ জলদাশ সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। খোকন ও রানা গাইবান্ধার বাসিন্দা।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের হাসপাতালে নেওয়া হলে কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বলেন, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত সাতজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, শিপইয়ার্ডে পুরোনো একটি এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক জাহাজের ভেতরের একটি বদ্ধ কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের ঘটনায় শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম বলেন, বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের কারণেই শ্রমিকরা আক্রান্ত হয়েছেন।
শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় শিপইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।





























