সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর জামিন নামঞ্জুর

সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর জামিন নামঞ্জুর ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি প্রতিনিধি

Published : ১৯:৫৮, ১৩ আগস্ট ২০২৬

রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তাঁর জামিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর পক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম।

আইনজীবী নজরুল ইসলাম জানান, সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়নি। দুপুর ১২টার দিকে তাঁর জামিনের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন মঞ্জুর করেননি। আগামী মঙ্গলবার এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হবে এবং তাঁর উপস্থিতিতে জামিনের শুনানি হবে।

গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সাদাপোশাকের গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তাঁর সহকর্মীরা। একই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবরকেও আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা ডিএমপির শাহবাগ থানায় আলী আকবরের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আলী আকবরকে আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকেও তুলে নেওয়া হয়।

পরে দুজনকেই ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী।

এদিকে ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে চার ব্যক্তি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঘিরে রেখেছেন। পাশে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়িটি চালু অবস্থায় ছিল এবং এর নির্দেশক বাতি জ্বলছিল। একপর্যায়ে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ওই গাড়িতে তোলা হয়। পরে গাড়িটি স্টেডিয়ামের দিকে চলে যায়।

সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর এক সহকর্মী জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের একসঙ্গে খাবার খেতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে কাজ থাকায় সৈকত সেখানে চলে যান এবং পরে আসবেন বলে জানান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তিনি না আসায় সহকর্মীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁর মোটরসাইকেল পাওয়া গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে সাদাপোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি মাইক্রোবাসে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।

মুক্তির দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন।

সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকেরা মানববন্ধন করেছেন। একই সঙ্গে সাদাপোশাকধারীদের মাধ্যমে তাঁকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমাসহ স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement