তদন্তের মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে: আমির খসরু

তদন্তের মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে: আমির খসরু শিপইয়ার্ডে হতাহতদের পরিস্থিতি দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে যান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Published : ১৭:৩১, ১৪ আগস্ট ২০২৬

সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এলএনজিবাহী জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ঘটনাটিকে ‘খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সঠিক তথ্য বের করে আনা।

তিনি বলেন, ‘এখানে কারও পক্ষে-বিপক্ষে কিছু নেই। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।’

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর একটি দল ইতোমধ্যে সেখানে গেছে। তারা জাহাজ থেকে গ্যাস নির্গমন বন্ধে কাজ করছে।

শিল্প খাতে নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিল্পের কমপ্লায়েন্সের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। হংকং কনভেনশনের আওতায় শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোর গ্রেডিং করা হয় এবং গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের সনদ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো কমপ্লায়েন্সের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা। যদি কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দুর্ঘটনায় নিহত ৮

এর আগে শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুরোনো একটি এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার সময় জাহাজের ভেতরের একটি বদ্ধ কক্ষে কয়েকজন শ্রমিক প্রবেশ করলে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—নাসির উদ্দিন (৪৭), মনসুর আহমদ (৫৫), সানি জলদাশ (৩৫), পলাশ জলদাশ (৩৯), মো. খোকন (৪০) ও মো. রানা (২৭)। নাসির উদ্দিন ও মনসুর আহমদ সম্পর্কে দুই ভাই এবং তারা সেকান্দর মিয়ার ছেলে। সানি ও পলাশ জলদাশ সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। খোকন ও রানা গাইবান্ধার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আহত সাতজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, শিপইয়ার্ডে পুরোনো এলএনজিবাহী একটি জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। জাহাজের ভেতরের বদ্ধ কক্ষে প্রবেশের পর শ্রমিকরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠান।

প্রাথমিকভাবে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের কারণে হতাহতের খবর ছড়িয়ে পড়লেও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম জানান, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের কারণেই শ্রমিকরা আক্রান্ত হয়েছেন।

শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement