বাঞ্ছারামপুরে ৪২৬ নারীকে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ৮০ লাখ টাকা ক্ষুদ্রঋণ

বাঞ্ছারামপুরে ৪২৬ নারীকে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ৮০ লাখ টাকা ক্ষুদ্রঋণ

Published : ১১:৩৬, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দরিদ্র নারীদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন।

সোমবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথপুর আধুনিক মিলনায়তনে আয়োজিত ফাউন্ডেশনের ৮৪তম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ৪২৬ জন নারীকে মোট ৮০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন।

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন ২০০৫ সাল থেকে বাঞ্ছারামপুরে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরে কার্যক্রমটি পার্শ্ববর্তী নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনা উপজেলাতেও বিস্তৃত হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ২১ বছরে তিন উপজেলার ১০১টি গ্রামের প্রায় ৩১ হাজার দরিদ্র নারী এই ঋণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন।

ঋণ পাওয়া নারীরা জানান, তাঁরা হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল পালন, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন আয়মূলক কাজে ঋণের অর্থ ব্যবহার করছেন। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতাও তৈরি হচ্ছে।

দুর্গারামপুর গ্রামের কুলসুম জানান, এর আগে তিনবার বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করেছেন। এবার চতুর্থবার ঋণ নিয়ে আবারও আয়মূলক কাজে বিনিয়োগ করতে চান তিনি।

আসাদনগরের পারভীন আক্তার বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি ফাউন্ডেশনটির কাছ থেকে সুদমুক্ত ঋণ নিচ্ছেন। পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে তাঁর ঋণ নেওয়া শুরু হলেও এবার পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা। কৃষিকাজ ও হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে তিনি পরিবারে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন।

পাড়াতলি গ্রামের মোমেনা আক্তার এবারসহ পাঁচবার ঋণ পেয়েছেন। তিনি জানান, ঋণের অর্থ দিয়ে গরু-ছাগল পালন করে পরিবারের আয় বাড়াতে পেরেছেন।

অন্যদিকে আসাদনগরের হালিমা ঋণের অর্থ স্বামীর অটোরিকশার দোকানে বিনিয়োগ করেছেন। ব্যবসার লাভ থেকে ধীরে ধীরে দোকানের পরিধি বাড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, উচ্চ সুদের ঋণ অনেক সময় দরিদ্র মানুষের জন্য আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। এ পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রম মানুষকে আয়মূলক কাজে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকায় উপকারভোগীরা ঋণের অর্থ আয়মূলক কাজে বিনিয়োগ করে কিছুটা সময় নিয়ে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মাধ্যমে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে একটি সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে। দুই দশকের বেশি সময়ের এই কার্যক্রমে তিন উপজেলার প্রায় ৩১ হাজার নারী যুক্ত হয়েছেন।

তিনি ঋণের অর্থ বৈধ ও আয়মূলক কাজে ব্যবহার করে নিজেদের আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্ষুদ্রঋণের পাশাপাশি বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগও এলাকার মানুষের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে। অনেক নারী প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. চাঁনমিয়া সরকার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন, শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

 
শেয়ার করুনঃ
Advertisement