ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা, থাকছে রুট ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা
Published : ১৯:২৬, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। তবে এসব যানবাহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত থাকায় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও নীতিমালায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় কোন সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে পারবে, কোথায় চলাচল সীমিত থাকবে এবং কীভাবে এসব যানবাহন পরিচালিত হবে—এসব বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
প্রধান সড়কে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের সময় সড়কভেদে যানবাহন চলাচলের অনুমোদন ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা হবে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে একদিকে যানজট ও সড়ক বিশৃঙ্খলা কমানো, অন্যদিকে অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকায় যাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় আসছে নজরদারি
নতুন নীতিমালায় পরিবেশগত বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অটোরিকশায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাটারির সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা যুক্ত করার কথাও জানান তিনি। একটি নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বরের আওতায় যাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে একাধিক যানবাহন পরিচালনা করা না যায়, সে বিষয়েও নিয়ম করা হচ্ছে।
অবৈধ চার্জিং স্টেশন নিয়েও ব্যবস্থা
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিংকে ঘিরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টিও সরকারের নজরে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে চার্জিং স্টেশন পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
অটোরিকশাকে ‘নগর অর্থনীতি’র অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান
সংসদে আলোচনার সময় রেহানা আক্তার রানু বলেন, অটোরিকশা এখন শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়; এর সঙ্গে বড় একটি জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও নগর অর্থনীতি জড়িত। ফলে হঠাৎ করে যানবাহন জব্দ বা চালকদের হয়রানি না করে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি প্রধান সড়কের পরিবর্তে ভেতরের সড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ, অঞ্চলভিত্তিক জোনিং, বিআরটিএ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এবং সৌরবিদ্যুৎনির্ভর চার্জিং ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন।
কর্মসংস্থান ও সড়ক শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থান যাতে হঠাৎ ব্যাহত না হয়। পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমানো, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করাও নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, বেকারত্ব না বাড়িয়ে, কর্মসংস্থান অক্ষুণ্ন রেখে এবং পরিবেশ ও সড়ক ব্যবস্থাপনার বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন বিধি বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল আরও কাঠামোবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নিবন্ধন, রুট নির্ধারণ, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ও চার্জিং ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসতে পারে।































