বেলার মামলায় কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ: মীর শাহে আলম

বেলার মামলায় কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ: মীর শাহে আলম ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার প্রতিনিধি

Published : ১২:০৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা আইনি জটিলতায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর অভিযোগ, একটি সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বারবার বাধা সৃষ্টি করছে। শনিবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে একই দিনের একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনেও একই ধরনের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। 

মীর শাহে আলম বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এলাকাটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার যখনই কোনো উদ্যোগ নেয়, তখন একটি সংস্থা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে। আদালতের আদেশের কারণে উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এভাবে চললে কক্সবাজার শহরকে আধুনিকভাবে সাজানোর কাজ কঠিন হয়ে পড়বে। 

প্রতিমন্ত্রী জানান, সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীর হয়ে হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল। তবে কাজ শুরুর আগে উচ্চ আদালতের আদেশের কারণে প্রকল্পটি আটকে যায় বলে তিনি জানান। একই প্রকল্প নিয়ে পরিবেশ ও বালিয়াড়ি রক্ষার যুক্তিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্রতীরের নির্দিষ্ট এলাকায় স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে এলেও তাঁদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত হোটেলকক্ষের ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মীর শাহে আলম বলেন, পর্যটন নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে পরিবেশ ও পর্যটনের স্বার্থ বিবেচনায় রাখার কথাও তিনি বলেছেন। 

এর আগে শনিবার সকালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথা জানান। 

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। বর্জ্য থেকে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রমও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। 

শেয়ার করুনঃ
Advertisement