জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন: বাংলাদেশসহ প্রায় ৭০টি দেশের ঐতিহাসিক ওয়াকআউট
Published : ১৫:১৫, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা সভা কক্ষ ত্যাগ করে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক ওয়াকআউট করেছেন। গাজায় অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিবাদে বিশ্বমঞ্চে এই গণ-প্রত্যাখ্যান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ফিলিস্তিনি স্থায়ী মিশনের আহ্বানে এবং পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেতানিয়াহু যখন পোডিয়ামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বাংলাদেশ, সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও স্পেনসহ প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধিদল একসাথে কক্ষ ত্যাগ করেন অথবা তাদের আসন ফাঁকা রাখেন। এই সুপরিকল্পিত প্রতিবাদের কারণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশাল কক্ষের একটি বড় অংশ পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে পড়ে।
নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ
কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা যখন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনো নেতানিয়াহু তার নির্ধারিত বক্তব্য চালিয়ে যান এবং গ্যালারিতে উপস্থিত তার গুটিকতক সমর্থক তাকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। খালিপ্রায় কক্ষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু ওয়াকআউটকারী প্রতিনিধিদের 'ভণ্ড মানবাধিকার আন্দোলনকারী' এবং যারা হলে অবস্থান করছিলেন তাদের 'কাপুরুষ' বলে কটূক্তি করেন।
ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র সাফাই গান এবং গাজায় ইসরায়েল কোনো ধরনের গণহত্যা চালায়নি বলে দাবি করেন। উল্টো তিনি দাবি করেন যে, ইসরায়েল নাকি 'গণহত্যা রোধ করেছে'। একইসঙ্গে তিনি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিসহ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের তীব্র সমালোচনা করেন।
বিশ্বনেতা ও আইসিসির অবস্থান
ভাষণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও নেতারা নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। ফিলিস্তিনিপন্থী নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) কর্তৃক যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি থাকা একজন ব্যক্তি জাতিসংঘের পবিত্র মঞ্চকে নিজের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টায় ব্যবহার করেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার শামিল বলে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো গুটিকতক পশ্চিমা দেশ সভা কক্ষে উপস্থিত থাকলেও বেশিরভাগ এশীয়, আরব, আফ্রিকান ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশ এই প্রতিবাদে সংহতি প্রকাশ করে।
জাতিসংঘের বাইরে তীব্র বিক্ষোভ
কূটনৈতিক ওয়াকআউটের সঙ্গে মিল রেখে ম্যানহাটনজুড়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ইহুদি, মুসলিম ও ফিলিস্তিনি দলগুলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেওয়া হয়। বিশেষ করে 'জুয়িশ ভয়েস ফর পিস'-এর ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে শত শত মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়, যা মার্কিন জনমত ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও বিভাজনকেই স্পষ্ট করে তোলে।

































