হরমুজ প্রণালী ৭ দিনের মধ্যে খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় ইরান
Published : ১১:৪০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করছে।
২৬ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্য, তেহরান অবিলম্বে প্রণালী খুলে দেওয়ার চুক্তি করতে চায়, কারণ তারা যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, তেহরান কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি রূপরেখা পাঠিয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে ওই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে তিনি জানিয়েছেন।
ইরানের প্রস্তাবে কী রয়েছে
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং লেবাননসহ অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতির বিষয় রয়েছে। প্রস্তাবের শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়েছে।
আরাকচি বলেছেন, প্রস্তাবের সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির পর শুরু হবে। প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন করতে চার থেকে পাঁচ দিন লাগতে পারে এবং ষষ্ঠ দিনে প্রণালী খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সপ্তম দিনে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে।
আরাকচির বক্তব্য
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাকচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। তিনি আরও জানান, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতার বিষয়গুলোই নতুন প্রস্তাবের ভিত্তি।
ট্রাম্পের বক্তব্য প্রসঙ্গে আরাকচি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতে বিভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেছেন। মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত মতামত জানালে তার ভিত্তিতে ইরান পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
ওমানের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা ওমান সংকট নিরসনে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ
মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে আর্থিক ও বিমান যোগাযোগে বিভিন্ন দেশের বিধিনিষেধ তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের অবস্থান বিবেচনায়।
চীন ইরানের তেল আমদানির অন্যতম প্রধান ক্রেতা। নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কতটা হবে, তা দেশগুলোর বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর উদ্যোগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

































