চোরাই ফোনের অভিযোগে আইফোন নিয়ে যাওয়ার দাবি, এসআইয়ের বিরুদ্ধে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

চোরাই ফোনের অভিযোগে আইফোন নিয়ে যাওয়ার দাবি, এসআইয়ের বিরুদ্ধে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ মেহেদী হাসান টিটু ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:০১, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চোরাই ফোন দাবি করে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কেনা আইফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান টিটুর বিরুদ্ধে। এ সময় ফোন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আয়ানের অভিযোগ, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের শফিক মোড় এলাকায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে আইফোনটি নিয়ে যান এসআই মেহেদী হাসান টিটু। ফোনটি চট্টগ্রাম থেকে চুরি হয়েছিল বলে দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আবুল হাসনাত আয়ান স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী।

আয়ান জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকান থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স কেনেন তিনি। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই তাঁর বাসায় গিয়ে ফোনটি চোরাই বলে দাবি করেন। এর আগের দিন ফোন করে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্যও নিয়েছিলেন ওই কর্মকর্তা।

আয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসআই তাঁকে জানান, চট্টগ্রামে এক নারীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাঁর মুঠোফোন, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করা হয়েছিল। তখন আয়ান ফোনের ক্যাশ মেমো ও বক্স দেখান। পাশাপাশি এসআইয়ের সামনেই দোকানে ফোন করে সেটি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে এরপরও এসআই তাঁকে বলেন, ফোনটি যেহেতু তাঁর কাছে পাওয়া গেছে, তাই সমস্যাটি তাঁকেই মোকাবিলা করতে হবে। এ সময় উপস্থিত আয়ানের মামা ফোন বিক্রির দোকানে অভিযান চালানোর পরামর্শ দেন। আয়ানও দাবি করেন, বৈধভাবে ফোনটি কেনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে।

ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আয়ানের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁকে ফোনসহ থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যান এসআই।

আয়ান বলেন, বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি নগদ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় ফোনটি কিনেছিলেন। কেনার সব কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেও ফোন কেনার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

ফোন নিয়ে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করে রাখতে এসআইকে অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান আয়ান। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ কর্মকর্তা নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করলেও তাঁকে ভিডিওটির কপি দেওয়া হয়নি।

আয়ানের প্রশ্ন, বৈধভাবে ফোন কেনার পরও তাঁকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এখন ফোনের মূল্য ও নেওয়া টাকা ফেরত পেতে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।

এসআইয়ের বক্তব্য ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগের বিষয়ে এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে তাঁর পরিচিত ব্যক্তিরা বাসায় নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। পরে ওই নারীর বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি আইফোন নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ওই নারী একটি সিআর মামলা করেন। পরে মামলাটি গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ডিবি তাঁকে ফোনটি উদ্ধারের দায়িত্ব দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ফোনটি উদ্ধার করেছেন বলে দাবি করেন।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দোকান থেকে ফোনটি কিনেছিলেন—এ তথ্যও স্বীকার করেন এসআই। তবে শিক্ষার্থীর আর্থিক ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি শ্রীপুরের এক সাংবাদিকের পরিচয় উল্লেখ করেন এবং গাজীপুর জেলা পর্যায়ের সরকারি দলের এক শীর্ষ নেতার ভাগ্নে বলে নিজেকে পরিচয় দেন। ১৭ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেখা করে চা খাওয়ার প্রস্তাব দেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন। তিনি বলেন, কোনো এসআই এভাবে টাকা নিতে পারেন না।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনও প্রশ্ন তোলেন, একজন এসআই কেন ১৭ হাজার টাকা নেবেন। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে টাকা নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement