শিশু নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাবার বক্তব্য
Published : ১০:৫৮, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ছয় বছরের মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের স্বীকারোক্তির পর তাঁকে মারধর করার ঘটনার দুই দিন পর মুখ খুলেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তাঁর দাবি, মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানতে চাইলে শিক্ষক জোরাজুরি ও চুমু দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিক্ষককে মারধর করেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন রুমি।
ঘটনার দিনের বিবরণ দিতে গিয়ে রুমি জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষের বাইরে তিনি প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেছিলেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক সেখানে এলে তিনি সরাসরি জানতে চান, কী ঘটেছিল। শিক্ষক তাঁর মেয়ের সঙ্গে জোরাজুরি ও চুমু দেওয়ার কথা বলার পর একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি নিজেকে সামলাতে পারেননি বলে জানান। এরপর কী ঘটেছে, তা সবাই দেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুমির অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ওই অর্থ নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।
ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে রুমি জানান, সেখানে থাকা একটি কাচের ওপর তিনি হাত রেখেছিলেন, এরপর সেটি ভেঙে যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাচটির পুরুত্ব প্রায় তিন মিলিমিটার ছিল।
এ ছাড়া মারধরের ঘটনার দুই দিন আগে অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর বাসায় গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন রুমি। তিনি জানান, হোয়াটসঅ্যাপে শিশুটির মাকে বার্তা পাঠিয়ে ওই শিক্ষক তাঁর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বাসার সামনে অবস্থান করছেন বলে জানান। পরে রাস্তায় শিশুটির নানার সঙ্গে দেখা হলে শিক্ষক তাঁকে বলেন, ‘আমি এ ধরনের কাজ আর কখনও করব না।’
শিশুটির বাবা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ছয় বছরের শিশুর প্রতি এ ধরনের নিপীড়নের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সহায়ক হবে।

































