রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা: আয়াসসহ চারজনের রিমান্ড আবেদন
Published : ১৮:০৩, ১১ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন সাকিবুল হাসান (১৯), সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)।
রোববার (১১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল আসামিদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে চার আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। শুনানির সময় তাঁদের আদালতের এজলাসে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন হাজতখানার ইনচার্জ এসআই মোরশেদ আলম।
যেসব অভিযোগে মামলা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় শনিবার শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক মামলাটি করেন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা করেন আয়াসের নেতৃত্বে একদল তরুণ। এ সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তাঁরা। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হলে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়। এ সময় এক পুলিশ সদস্য তাঁকে বাধা দেন। ওই নারী জানান, তাঁরা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে সেখানে এসেছেন। পুলিশের বাধার মধ্যেই আয়াসের নেতৃত্বে দলটি বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
দেয়ালে আঁকা হয়েছিল ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি
গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে শুক্রবার এসব প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেখানে সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।
এর পরদিন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আয়াসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি প্রতিকৃতিগুলো মোছার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুলিশ তাঁদের আটক করে এবং পরে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় রিমান্ডের আবেদন করা হলেও আদালতের শুনানি ও আদেশের বিষয়ে পরবর্তী তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
































