দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি প্রতিবেদক

Published : ১৮:৩২, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১১ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আপসের শর্তে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার ও মামলা

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। ঘরের বিছানায় একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদীর অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।

রিমান্ড ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনা

মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর মাকসুদা ইসলাম জামিন পান।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ও দল থেকে বহিষ্কার

গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয় এবং গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

এদিকে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা হয়। ওই মামলার বাদী ছিলেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। সেই মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। পরে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তাঁর আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement