যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
Published : ১৪:৫৫, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী তমা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় ১১ বছর পর স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া জামালপুর সদর উপজেলার লাহারিকান্দা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ফজলুল হক জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তমা খাতুনকে চাপ দিতেন জনি মিয়া। এ নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তমার বিরোধ চলছিল।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ সকালে বাজার করে আনা নিয়ে তমার সঙ্গে জনি ও তাঁর মা জোসনা বেগমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জনি তমাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে মারধর করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে তমার মরদেহ ওড়না দিয়ে ঘরের ধর্নার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা মনে করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তমাকে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর তাঁর মা উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং দুই আসামিকে খালাস দেন। মামলা চলাকালে আরেক আসামির মৃত্যু হয়। জনি মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।


































