মীর মুগ্ধসহ ১১ জনের হত্যা মামলা: আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু ট্রাইব্যুনালে

মীর মুগ্ধসহ ১১ জনের হত্যা মামলা: আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু ট্রাইব্যুনালে ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান । ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি প্রতিবেদক

Published : ০০:২৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসানসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হলো। আগামী ৪ নভেম্বর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম বাংলায় দুটি অভিযোগ পড়ে শোনান। পরে আসামিদের দোষী বা নির্দোষ—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে পরবর্তী কার্যক্রমের তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

গ্রেপ্তার আট আসামি
মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আসামিরা হলেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।

পলাতক আসামিদের মধ্যে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, উত্তরা বিভাগের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর এবং উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী।

এ ছাড়া উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, ফরিদ আহমেদ, ডিএম. শামীম, আনিছুর রহমান নাঈম ও আফছার উদ্দিন খানসহ আরও কয়েকজনকে এ মামলার আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর এবং তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনও রয়েছেন।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে
প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যা করা হয়।

একই অভিযোগে বলা হয়েছে, উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের সাঁজোয়া যান এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আবারও নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, দুটি দিনের এসব ঘটনা পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

৪ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ অসুস্থ থাকায় শুনানির তারিখ পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। রোববার অভিযোগ গঠনের পর আগামী ৪ নভেম্বর সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সুলতান মাহমুদ, আবুল হাসান এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা। মামলার অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

 
শেয়ার করুনঃ
Advertisement