নভেম্বর থেকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা রোসাটমের
Published : ১৫:৪৯, ১১ অক্টোবর ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ছোট আকারের ও ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রোসাটমের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাশিয়া সফররত বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। লিখাচেভ জানান, এ সাফল্যের সম্ভাবনা নতুন প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ।
প্রথম ইউনিট চালুর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি
রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু করে। সংস্থাটির মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট চালুর প্রক্রিয়ায় এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।
২০১১ সালের চুক্তির ভিত্তিতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রোসাটমের আগের ঘোষণা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিট চালুর কার্যক্রম আগামী বছর শুরু হওয়ার কথা।
প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় পারমাণবিক শক্তি যুক্ত করার ক্ষেত্রে নতুন পর্যায় সূচিত হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি ও চালুকরণ কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণে আলোচনা
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ জানান, বড় আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি সংস্থাটির অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিও বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়েও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা খোঁজখবর নিয়েছেন।
প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের আলোচনায় জায়গা করে নিতে পারে। তবে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি রোসাটম।
রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট চালুর প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে চলমান আলোচনা বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতের পরবর্তী পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।


































