মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পরিবার ও সমাজের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি
Published : ১০:৩২, ১০ অক্টোবর ২০২৬
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তাদের যথাযথ চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে দিবসটি উদ্যাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীতিনির্ধারণ ও সেবার পরিকল্পনায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সার্বিক সুস্থতা, কর্মক্ষমতা ও জীবনমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক অস্থিরতা, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রের চাপসহ নানা প্রতিকূলতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি জানান, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিত করার কার্যক্রমও চলছে। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ঝাড়ফুঁক কিংবা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসাপদ্ধতির পরিবর্তে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক নেতিবাচক ধারণা দূর করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
একটি সুস্থ, সচেতন ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচিগুলোর সাফল্য কামনা করেন তিনি।


































