‘সাধু সাজবেন না, সবার আমলনামা আছে’

‘সাধু সাজবেন না, সবার আমলনামা আছে’ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:২০, ৫ মার্চ ২০২৬

অভিনয়শিল্পী যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন ইফফাত আরা তিথি। বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইকরার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপের ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন।

ইকরার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যাহের আলভীর সঙ্গে সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির সম্পর্কের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে সম্প্রতি একটি নাটকের শুটিংয়ের কাজে যাহের আলভী ও তিথি নেপাল সফরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল তিথির জন্মদিন। বিনোদন অঙ্গনে গুঞ্জন ওঠে—তিথির জন্মদিন উদ্‌যাপন করতেই নেপালে শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

যদিও এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন আলভী। এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরা মারা যান। এরপর থেকেই আলভী ও তিথির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিথি ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এসব বিষয় প্রকাশ্যে আনব না। প্রয়োজনে প্রশাসনের কাছে জমা দেব, যাতে সবার সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে।

কিন্তু যেভাবে আমাকে হেনস্তা করা হচ্ছে, তাতে আর চুপ থাকা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় আমি অডিও স্টেটমেন্টও দিয়েছি। আর যারা নিজেদের খুব সাধু হিসেবে উপস্থাপন করছেন, তাদের সম্পর্কেও আমার কাছে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে।’

দীর্ঘ সেই পোস্টে তিথি দাবি করেন, যাহের আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা এবং অপপ্রচার। তিনি আগেই স্পষ্ট করেছেন যে ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। তিথির ভাষ্য অনুযায়ী, ইকরার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা হতো।

পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও মানসিক চাপের বিষয়েও ইকরা বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে আলোচনা করতেন। স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিথি বলেন, ‘ইকরার সংসার ভাঙার মতো কোনো ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না।’ বরং তিনি ইকরাকে কাজের মধ্যে সক্রিয় থাকতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য উৎসাহিত করতেন।

ফেসবুক পোস্টে তিথি আরও দাবি করেন, ‘আমি কখনো বলিনি তুমি ডিভোর্স দাও, আমি আলভীকে বিয়ে করব। বরং আমি সব সময় বলেছি, তুমি তার কুইন।’

ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন তিথি। তিনি বলেন, ‘কারও সংসার ভাঙার কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না। ইকরা কয়েকবার বলেছিল সে আমেরিকা চলে যাবে। তখন আমার উত্তর ছিল—“এভাবে বললেই তো হবে না, চাইলেও তুমি যেতে পারবে না। তুমি তাকে ভালোবাসো। তুমি রানি, তুমি তার রানি।” তাহলে আমি কীভাবে তাকে আত্মহত্যার জন্য উস্কানি দিতে পারি? যাই বলা হোক, এটা বলা যাবে না যে আমি তাকে নিজের জীবন নেওয়ার জন্য প্ররোচিত করেছি।’

তিথির পোস্টে ইকরার পরিবারের বিষয়টিও উঠে আসে। তার দাবি, ইকরা নিজেই পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক কষ্টের কথা বিভিন্ন সময় লিখে জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিথি লেখেন, ‘একটা মেয়ে যতই কষ্টে থাকুক, নিজের বাবা–মাকে নিয়ে তো মিথ্যা বলবে না। আমি তাদের দোষ দিচ্ছি না। তবে ইকরার মনে তার পরিবার নিয়েও কিছু কষ্ট ছিল।

তার মনে হতো পরিবার তাকে নিজের মতো করে ছেড়ে দিয়েছে। সে স্পষ্টভাবে লিখেছে, ২০১৮ সালে একবার সে আলাদা হয়ে গিয়েছিল এবং তখন তার বাবাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বলেছিল, কিন্তু তারা তাকে সাপোর্ট করেননি। সেই সময় থেকে তার মনে একটা ক্ষোভ জমে ছিল, এরপর আর সে বিষয়টি নিয়ে কিছু বলেনি।’

পোস্টের শেষ দিকে তিথি আরও উল্লেখ করেন, যদি তার সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যেন বিষয়টি তদন্ত করে দেখে। দীর্ঘ এই ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিথি লেখেন, ‘আল্লাহ ওকে ভালো রাখুন, শান্তিতে রাখুন। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক। আর দূর থেকেই রিযিকের জন্য দোয়া করি, যেন তার জীবনটা সুন্দর হয়।’

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement