৫০ বছর পর আবার চাঁদের পথে নাসা

৫০ বছর পর আবার চাঁদের পথে নাসা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৫৮, ২ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন চার নভোচারী। নাসার শক্তিশালী রকেটে চেপে তারা চন্দ্রকক্ষের পথে রওনা দেন। প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর এটি প্রথম মনুষ্যবাহী চন্দ্রাভিযান হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে কমলা-সাদা রঙের বিশাল রকেটটি প্রচণ্ড শব্দে আকাশে উড়াল দেয়। এতে তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় নভোচারী রয়েছেন। উৎক্ষেপণের মুহূর্তে আগুনের ঝলকানিতে আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে এবং নাসার কর্মীসহ উপস্থিত হাজারো দর্শক উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

অভিযানের শুরুতে নভোচারীদের পরনে ছিল নীল পাড়ের উজ্জ্বল কমলা রঙের বিশেষ পোশাক। এই দলে রয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। মিশনের কমান্ডার ওয়াইজম্যান উৎক্ষেপণের সময় বলেন, চাঁদ কত সুন্দরভাবে উঠছে, আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার এক টেলিভিশন ভাষণের শুরুতে এই অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীদের প্রশংসা করেন এবং এটিকে একটি অসাধারণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

বর্তমানে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করছেন। যেহেতু মহাকাশযানটি আগে কখনও মানুষ বহন করেনি, তাই এর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে তারা কিছু সময় কক্ষপথেই অবস্থান করবেন। ইতোমধ্যে তারা ‘প্রক্সিমিটি অপারেশন’ নামে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন, যার মাধ্যমে মহাকাশযানের চলাচল ও সংযুক্তির সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, হিউস্টনের সঙ্গে উড়তে পেরে তিনি আনন্দিত এবং মহাকাশযানটি অত্যন্ত ভালোভাবে কাজ করছে। উৎক্ষেপণের পর এক ব্রিফিংয়ে নাসার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অমিত ক্ষত্রিয় জানান, শুরুতে কিছু ছোটখাটো প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলেও সেগুলো বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

নাসা প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, মহাকাশযানের সঙ্গে সাময়িক যোগাযোগ সমস্যা হলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে এবং নভোচারীরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক অবস্থায় আছেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের নভোচারীরা বৃহস্পতিবার থেকে চাঁদের উদ্দেশে তিন দিনের যাত্রা শুরু করবেন। তারা চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে নতুন তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করবেন। পুরো মিশনটি প্রায় ১০ দিনব্যাপী চলবে। এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষকে আবার চাঁদের মাটিতে অবতরণ করানোর পথ প্রস্তুত করা।

এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করতে ফ্লোরিডার স্পেস কোস্ট এলাকায় প্রায় ৪ লাখ মানুষ জড়ো হন। বিজ্ঞানী সিয়ান প্রক্টর বলেন, মানবজাতির জন্য এটি একটি বড় অর্জন এবং সবাইকে এই মুহূর্তে গর্বিত হওয়া উচিত।

এই অভিযানের মাধ্যমে নতুন ইতিহাসও সৃষ্টি হচ্ছে। এটি প্রথম চন্দ্রাভিযান যেখানে একজন কৃষ্ণাঙ্গ, একজন নারী এবং একজন অ-মার্কিন নভোচারী একসঙ্গে অংশ নিচ্ছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে তারা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের রেকর্ডও গড়বেন।

নাসার নতুন রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস)-এর এটিই প্রথম মানববাহী উড্ডয়ন। এই রকেট ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে চাঁদে যাতায়াত এবং সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিলম্ব ও ব্যয়ের নানা সমালোচনা পেরিয়ে অবশেষে এই মিশন বাস্তবায়িত হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগে কয়েকবার উৎক্ষেপণ স্থগিত করতে হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য নাসার জন্য বড় এক অর্জন, যা সংস্থার মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মহাকাশ প্রতিযোগিতাকেও নতুন মাত্রা দিচ্ছে। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানের গতি আরও বাড়াতে চান এবং তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য অর্জনের ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছুটা সংশয় রয়েছে, কারণ এতে বেসরকারি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বেশি।

দিনের শুরুতে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনীতি, সামরিক শক্তি এবং এখন মহাকাশ গবেষণাতেও এগিয়ে রয়েছে এবং বিশ্ব এ অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement