ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:০৭, ২ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা উত্থানের পর আবারও কিছুটা কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় বাজারে এই পতন দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ৫৩ সেন্ট বা ০.৫৬ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৪.৪৫ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫৬ সেন্ট বা ০.৬১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯১.৬০ ডলারে লেনদেন হয়।

এর আগে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আশায় মে মাসজুড়ে তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছিল। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হওয়ায় সোমবার উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। একদিকে তিনি সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পরে এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা আপাতত স্থগিত করেছে তেহরান। দুই পক্ষের এমন ভিন্নমুখী অবস্থান তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিও বাজারকে প্রভাবিত করছে। সোমবার লেবানন সরকার হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চাপে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement